
Forex বাজার একটা ভিড়ে ঠাসা ঘর — কিন্তু ঘরের সবাই সমান জোরে ঠেলে না। চলুন চরিত্রদের সঙ্গে আলাপ করি।
গতবার দেখেছি যে Forex অংশগ্রহণকারীদের একটা মই। এবার সেই ধাপগুলোয় মুখ বসাই। কারণ এই বাজারের ব্যাপারটা হল: খেলোয়াড়দের আকারে বিশাল তফাত।
কেউ কেউ একটা সিদ্ধান্তেই সমুদ্রসমান টাকা নাড়িয়ে দাম যেদিকে খুশি ঠেলে দিতে পারেন। অন্যরা — আমাদের মতো — তুলনায় খুবই ছোট। ঘরে কে আছেন, আর কার কত ওজন, তা জানলে চার্টের প্রতিটি নড়াচড়া পড়ার ধরন চুপচাপ বদলে যায়।

বড় মানিব্যাগ, বড় পদচিহ্ন। পুরো ধারণাটা এটাই।
খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক — আর এরা একেবারে নিজস্ব শ্রেণির। এরা শুধু বড় ট্রেডার নয়; এরাই খেলার নিয়ম ঠিক করে। একটা কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি চালায় আর, সবচেয়ে জরুরি, পুরো অর্থনীতির সুদের হার ঠিক করে।
এরা নিজেদের কারেন্সিকে একটু ঠেলতে সরাসরি বাজারেও নামতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কথা বললে বাকি সবাই থেমে শোনে — একটা ঘোষণাই কোনো কারেন্সিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে একদিকে ভাসিয়ে নিতে পারে।
নতুন ট্রেডারের জন্য সবচেয়ে ভয়ের নড়াচড়াগুলো প্রায়ই আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা থেকে। সুদের সিদ্ধান্ত আসার কথা আর আপনি জানেন না — তাহলে কয়েক সেকেন্ডে পায়ের নিচ থেকে বাজার সরে যেতে পারে। রেফারি কী বলতে চলেছে, সবসময় দেখে নিন।
এরপর বিশাল বাণিজ্যিক আর ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম ঠিক করলে এই ব্যাংকগুলো দেয় পেশিশক্তি। বাজারে সবার চেয়ে বেশি কাঁচা ভলিউম এরাই ঠেলে, একে অপরের সঙ্গে আর বড় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে অনবরত লেনদেন করে।
এটাই সেই ইন্টারব্যাংক স্তর, যা আগে দেখেছি — পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর লিকুইডিটি আর সবচেয়ে কাছাকাছি দাম। Forex-এ রোজ ট্রিলিয়ন ডলার হাতবদল হয় শুনলে জানবেন, হাতবদলটা মূলত এরাই করে।

ব্যাংকগুলোর নিচে একেবারে আলাদা উদ্দেশ্যের দুটো আলাদা ভিড়।
হেজ ফান্ড আর বড় প্রতিষ্ঠান হল আগ্রাসীরা। কারেন্সি কোথায় যাচ্ছে বলে তারা মনে করে, তা থেকে লাভের চেষ্টায় বিশাল, হিসাব-কষা বাজি ধরে। কোনো বড় ফান্ড জোরালো মত নিলে বাজার তা টের পায়।
বহুজাতিক কোম্পানি একেবারে উল্টো স্বভাবের। এরা সাধারণত জুয়া খেলতে আসেই না — এরা ট্রেড করে আসল ব্যবসা রক্ষা করতে। বিদেশে আয় করা কোম্পানি এক্সচেঞ্জ রেট লক করে ওঠানামা থেকে নিজেকে বাঁচাতে Forex ব্যবহার করে। একে বলে হেজিং: ইচ্ছে করেই একঘেয়ে, আর সেটাই উদ্দেশ্য।
কোনো গাড়ি নির্মাতা বিদেশে হাজার হাজার গাড়ি বেচলে এক্সচেঞ্জ রেটের বদল চুপচাপ তার লাভ মুছে দিতে পারে। তাই সে সেই ঝুঁকিকে জায়গায় জমিয়ে রাখতে কারেন্সি ট্রেড করে। কোম্পানির কাছে “একঘেয়ে” Forex ট্রেডই সফল ট্রেড।
স্তূপের একেবারে তলায় খুচরো ট্রেডার — আপনার মতো ব্যক্তিরা, যাঁরা ল্যাপটপ বা ফোন থেকে ট্রেড করেন। সব মিলিয়ে আমরা পুরো বাজারের সবচেয়ে ছোট অংশ। সবচেয়ে জোরালো নয়, সবচেয়ে ভারী নয়, শুধু সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি।

ছোট হওয়া পুরোটাই খারাপ খবর নয়। আপনি মুহূর্তে পজিশনে ঢুকতে-বেরোতে পারেন — কোনো কমিটি নেই, খোলার মতো বিলিয়ন ডলারের অর্ডার নেই। আপনার কাজ নদী নাড়ানো নয়; দৈত্যরা কোন দিকে ঠেলছে তা পড়ে সেদিকে দাঁড় বাওয়া।
এই হল আপনার চরিত্রেরা: রেফারি, ভলিউমের রাজা, জুয়াড়ি, হেজার, আর তলায় আমরা। ক্রমটা মাথায় রাখলে বাজারকে আর এলোমেলো মনে হয় না — মনে হয় খেলোয়াড়ে ভরা একটা ঘর, যেখানে প্রত্যেকের থাকার একটা কারণ আছে। এরপর ঘড়ি পিছিয়ে দেখব এই পুরো বাজারটা প্রথমে কীভাবে তৈরি হল।
