BeInOptions AcademyBeInOptionsAcademy
beinoptions.com
Academy-তে ফিরে যান
Trading Pitলেভেল 1পাঠ 10 / 15

Forex-এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

টাকা কীভাবে সোনার বার থেকে ভাসমান পিক্সেলে এল

15টি ধাপ+40 XP
1

পড়া হয়েছে

পাঠের নিবন্ধ
Forex-এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
~4 মিনিট
শুনুন · 4:23

আপনার স্ক্রিনের চার্টগুলো আশ্চর্য রকম নবীন। দেখুন টাকা কীভাবে ভল্টের সোনার বার থেকে আপনার পকেটের ভাসমান পিক্সেলে এল।

pips, ক্যান্ডেল বা ট্রেডিং অ্যাপের আগে ছিল সোনা। ঠান্ডা, ভারী, ভল্টে রাখা। আজ বাজার যেভাবে কাজ করে কেন করে, তা বুঝতে পিছিয়ে গিয়ে দেখা ভালো, টাকার পুরো ধারণাটা কীভাবে ধীরে ধীরে বাঁধন খুলে ফেলল।

Call ম্যাসকট চকচকে সোনার বারে ঠাসা একটা আবছা ভল্টে দাঁড়িয়ে

যখন টাকা ছিল সোনা

ইতিহাসের দীর্ঘ সময় জুড়ে কোনো দেশের কাগজের টাকার মূল্য ছিল একটাই সহজ কারণে: ব্যাংকে গিয়ে তা আসল সোনার সঙ্গে বদলানো যেত। এই তথাকথিত গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডে কারেন্সির প্রতিটি এককের পিছনে নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনা থাকত।

এতে টাকা ভরসাজনকভাবে স্থিতিশীল থাকত — একটা নোট ছিল গুপ্তধনের উপর সত্যিকারের দাবি। কিন্তু সঙ্গে ছিল একটা ভারী শিকল: অর্থনীতি তার টাকার জোগান বাড়াতে পারত শুধু ততটাই দ্রুত, যত দ্রুত আরও সোনা খুঁড়ে তোলা বা কেনা যেত। গোটা আর্থিক ব্যবস্থা বাঁধা থাকত আপনার হাতে কতটা চকচকে ধাতু আছে তার সঙ্গে।

🪙 নোট ছিল একটা ঋণপত্র

গোল্ড স্ট্যান্ডার্ডের যুগে ব্যাংকনোট আসলে একটা রসিদ, যাতে লেখা “এটা X গ্রাম সোনায় বদলানো যাবে।” কাগজটার নিজের কোনো মূল্য ছিল না — এটা ছিল পিছনের ভল্ট নিয়ে একটা প্রতিশ্রুতি।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে: সবকিছু ডলারে বাঁধা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে বড় অর্থনীতিগুলো ক্লান্ত, আর বিশৃঙ্খলায় না ডুবে একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্যের একটা উপায় দরকার ছিল। তাই 1944 সালে তারা একটা চুক্তি করল, যা ব্রেটন উডস ব্যবস্থা নামে পরিচিত।

চতুর মোড়টা হল: প্রতিটি কারেন্সি আলাদাভাবে সোনাকে অনুসরণ না করে সবাই নিজেদের মূল্য মার্কিন ডলারে বেঁধে দিল — আর শুধু ডলারই সোনায় বদলানো যেত। গ্রিনব্যাক হয়ে উঠল টাকার জগতের একেবারে কেন্দ্রের নোঙর।

বিশাল একটা মার্কিন ডলারের নোঙর, দড়ি দিয়ে তার সঙ্গে বাঁধা বিশ্বের নানা কারেন্সি
💡 এক লাইনে ব্যবস্থাটা

অন্য কারেন্সিগুলো ডলারে বাঁধা। শুধু ডলারকেই সোনায় বদলানো যায়। পুরো লক্ষ্য ছিল স্থিতিশীল এক্সচেঞ্জ রেট, যাতে যুদ্ধের পরে পৃথিবী বিশ্ববাণিজ্য নতুন করে গড়তে পারে।

সবার উপর একটাই কারেন্সি — অন্তত কিছুদিনের জন্য।


1970-এর দশক: কারেন্সি বাঁধনমুক্ত

1970-এর দশকের শুরুতে ডলার-আর-সোনার ব্যবস্থা চাপে বেঁকে যাচ্ছিল। সব ডলারের পিছনে যথেষ্ট সোনা ছিলই না, আর সেই চাপ শেষমেশ ব্যবস্থাটা ভেঙে দিল। আমেরিকা ডলারকে সোনায় বদলানো বন্ধ করল, আর ব্রেটন উডস ধসে পড়ল।

সেই মুহূর্ত থেকে বিশ্বের বড় কারেন্সিগুলো ভাসার স্বাধীনতা পেল — তাদের দাম ঠিক হতে লাগল কোনো নির্দিষ্ট বাঁধনে নয়, সোজাসাপ্টা চাহিদা আর জোগানে, প্রতিদিন প্রতি সেকেন্ডে একে অপরের তুলনায় ওঠানামা করে।

🎂 আধুনিক Forex আপনার ভাবনার চেয়েও নবীন

আজ আপনি যে বাজারে ট্রেড করেন, এটাই তার আসল জন্মদিন। লাইভ চার্টে কারেন্সির ওঠানামার পুরো ধারণাটার বয়স মাত্র আধ শতাব্দী — এটা যাঁরা পড়ছেন তাঁদের অনেকের চেয়েও কম।

দড়ি কাটা হতেই কারেন্সির বেলুনগুলো স্বাধীনভাবে ভেসে যাচ্ছে, আর Call ম্যাসকট উল্লাস করছে

1990-এর দশকের শেষ: Forex খুচরো হল

কারেন্সি স্বাধীনভাবে ভাসলেও কয়েক দশক ধরে তাদের ট্রেডিং ছিল একটা বিশেষ ক্লাব — যোগাযোগ আর মূলধনওয়ালা ব্যাংক আর বিশাল প্রতিষ্ঠানের খেলা। সাধারণ মানুষের ঢোকার কোনো রাস্তা ছিল না।

তারপর এল ইন্টারনেট। 1990-এর দশকের শেষে অনলাইন ব্রোকাররা উপায় বের করে ফেলল, যাতে সাধারণ মানুষ ছোট অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের শোবার ঘর থেকেই ঠিক সেই বাজারে ট্রেড করতে পারেন। Forex শুধু-সদস্যদের ক্লাব থেকে এমন কিছুতে পরিণত হল, যেখানে একটা কম্পিউটার আর কানেকশন দিয়েই ঢোকা যায়।

💡 সেই শেষ ধাপটা আপনি

ইন্টারনেটই আপনার পকেটে একটা ট্রেডিং ডেস্ক এনে দিয়েছে। এর আগের প্রতিটি যুগে আপনি ছিলেন বাইরে। এই মুহূর্তেই অবশেষে খুচরো ট্রেডারের জন্য বাজারের দরজা খুলল — আর ঠিক এই কারণেই আপনি এখানে।

তাহলে এক নিঃশ্বাসে পুরো যাত্রা: ভল্টে সোনা → ডলারে বাঁধা কারেন্সি → 1970-এর দশকে বাঁধন ছেঁড়া → 1990-এর দশকের শেষে ইন্টারনেট দরজা হাট করে খুলে দিল। ভারী ধাতু থেকে ভাসমান পিক্সেল। আমরা এখানে কীভাবে এলাম তা জানলেন, এবার বাজার আসলে কী করছে তা পড়তে শুরু করার জন্য আপনি তৈরি।

এই পাঠ নিয়ে প্রশ্ন

আরও প্রশ্ন আছে? আলোচনা করুন
+40 XP পেতে এই পাঠটি শেষ করুন
ইন্টারঅ্যাক্টিভ পাঠটি খেলে সম্পূর্ণ করুন আর পরেরটা আনলক করুন।
পাঠ শুরু করুন