মেজর, ক্রস আর এক্সোটিক — কারেন্সি কীভাবে দুটো করে ট্রেড হয়

প্রতিটি Forex দামের দুটো দিক একে অপরের বিপরীতে টানে — আর আপনি সবসময় দুই দিকেই থাকেন।
EUR/USD কিনলে আপনি একটা পদক্ষেপে একসঙ্গে দুটো বাজি ধরেন: ইউরোয় long, ডলারে short। কারেন্সি কখনও একা ট্রেড হয় না — সবসময় দুটো করে।
একটা কারেন্সি একা ধরে রাখার কোনো উপায় নেই। একটা নেওয়া মানে সবসময় একই মুহূর্তে আরেকটা ছেড়ে দেওয়া, আর এই কারণেই Forex কোট হয় জোড়ায়, কখনও একা নয়।
বিদেশে খুচরো ট্রেডাররা কারেন্সিতে পৌঁছান Forex ডিলার আর CFD প্রোভাইডারের মাধ্যমে; ভারতে বাসিন্দারা কারেন্সি পেয়ার ট্রেড করতে পারেন শুধু NSE, BSE বা MSE-তে futures আর options হিসেবে, একজন SEBI-নিবন্ধিত ব্রোকারের মাধ্যমে। যেভাবেই হোক, কারেন্সি সবসময় জোড়ায় ট্রেড হয় — প্রতিটি কারেন্সি আরেকটার সাপেক্ষে কোট করা।
EUR/USD হল ডলারে মাপা ইউরো। GBP/JPY হল ইয়েনে মাপা পাউন্ড। এখানে হিসাবের একক পেয়ারটাই, তার ভিতরের কোনো একটা কারেন্সি নয়।
তাই আপনি যত অর্ডারই দিন, প্রতিটিতে দুটো কারেন্সির নাম থাকে, আর সেটা দুটোর উপরেই কাজ করে।

প্রতিটি কারেন্সি পেয়ারকে ভাবুন অবিরাম দড়ি টানাটানির মতো, প্রতিটি কারেন্সি দড়ির নিজের দিকটা টানছে।
একটা কোট আপনাকে দেয় একটা অনুপাত, আর যে কোনো অর্ধেক নড়লেই অনুপাত নড়ে। এই কারণেই স্ট্রেংথ রিডিং একটা একক চার্টের চেয়ে বেশি কিছু বলে।
একটা পেয়ার কেনা মানে তাতে long যাওয়া; আগে বিক্রি করা মানে short যাওয়া। প্রতিটি Forex ট্রেড একটা কারেন্সিতে long আর অন্যটায় short — একটা ক্লিক, দুটো পজিশন।
কারেন্সি পেয়ারের তিনটে পরিবার আছে:
1. মেজর — সবসময় মার্কিন ডলার থাকে।
2. ক্রস — দুটো মেজর, কিন্তু মার্কিন ডলার নেই।
3. এক্সোটিক — একটা মেজর, একটা উদীয়মান বাজারের কারেন্সির সঙ্গে জোড়া।
নিচের তালিকাটাকে মেজর বানায় একটাই সাধারণ বৈশিষ্ট্য: প্রত্যেকটার একদিকে মার্কিন ডলার। এই কারণেই এগুলো সবচেয়ে ব্যস্ত — বাজারের বেশিরভাগটার একদিকে ডলার।
আটটা কারেন্সি, সাতটা পেয়ার — আর যেটা নেই, সেটা কোনো ভুল নয়। ডলারকে নিজের সঙ্গে জোড়া যায় না, তাই বাকি সাতটা থেকে সে সাতটা সঙ্গী পায়।
ক্রস বা এক্সোটিকের চেয়ে মেজরে দাম বেশি ঘনঘন নড়ে, মানে ট্রেড করার বেশি সুযোগ।
কারেন্সি পেয়ার · দেশ · ডেস্কের ডাকনাম
EUR/USD — ইউরোজোন / মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র — “euro dollar”
USD/JPY — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / জাপান — “dollar yen”
GBP/USD — যুক্তরাজ্য / মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র — “cable”
USD/CHF — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / সুইজারল্যান্ড — “dollar swissy”
USD/CAD — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / কানাডা — “dollar loonie”
AUD/USD — অস্ট্রেলিয়া / মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র — “aussie dollar”
NZD/USD — নিউজিল্যান্ড / মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র — “kiwi dollar”
মেজরগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে লিকুইড পেয়ার। লিকুইডিটি হল একটা বাজারে কাজকর্মের মাত্রা — কতজন ট্রেডার কেনাবেচা করছেন, আর কতটা ভলিউম যাচ্ছে।
AUD/USD-র চেয়ে বেশি মানুষ, বেশি ভলিউমে EUR/USD ট্রেড করেন — তাই EUR/USD বেশি লিকুইড, আর তার spread বেশি সরু।
spread হল টোল — কেনা আর বেচার দামের মধ্যের ছোট্ট ফাঁক। বাজার পার হওয়ার জন্য আপনি এটাই দেন, তাই টোল যত সরু = ট্রেড তত সস্তা।
মার্কিন ডলার ছাড়া যে কোনো দুটো মেজর দিয়ে তৈরি পেয়ার হল ক্রস-কারেন্সি পেয়ার, বা সংক্ষেপে ক্রস। মেজর ক্রসকে মাইনরও বলা হয়।
মেজরের চেয়ে কম ট্রেড হয়, কিন্তু প্রচুর সুযোগ দেওয়ার মতো যথেষ্ট লিকুইড।
পরীক্ষাটা যান্ত্রিক, বিচার-বিবেচনার ব্যাপার নয়: ডলার নেই, মানে মেজর নয়। ডলার ছাড়া দুটো ভারী কারেন্সির পেয়ার হল ক্রস, দুটো অর্ধেক যতই বিখ্যাত হোক।
সবচেয়ে সক্রিয় ক্রসগুলো আসে USD ছাড়া তিনটে বড় কারেন্সি থেকে: EUR, JPY আর GBP।
EUR/CHF — “euro swissy” · EUR/GBP — “euro pound” · EUR/CAD — “euro loonie” · EUR/AUD — “euro aussie” · EUR/NZD — “euro kiwi” · EUR/SEK — “euro stockie” · EUR/NOK — “euro nockie”
EUR/JPY — “euro yen” বা “yuppy” · GBP/JPY — “pound yen” বা “guppy” · CHF/JPY — “swissy yen” · CAD/JPY — “loonie yen” · AUD/JPY — “aussie yen” · NZD/JPY — “kiwi yen”
GBP/CHF — “pound swissy” · GBP/AUD — “pound aussie” · GBP/CAD — “pound loonie” · GBP/NZD — “pound kiwi”

একটা মেজরকে কোনো ছোট বা দ্রুত বদলাতে থাকা অর্থনীতির কারেন্সির সঙ্গে জুড়ুন — ব্রাজিলিয়ান রিয়াল, মেক্সিকান পেসো, পোলিশ জ্লটি, টার্কিশ লিরা, দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড — আর আপনি পাবেন একটা এক্সোটিক।
আপনার ব্রোকারের উপর নির্ভর করে কয়েকটা দেখতে পারেন:
কারেন্সি পেয়ার · দেশ · ডেস্কের ডাকনাম
USD/BRL — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / ব্রাজিল — “dollar real”
USD/MXN — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / মেক্সিকো — “dollar mex”
USD/ZAR — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / দক্ষিণ আফ্রিকা — “dollar rand”
USD/SGD — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / সিঙ্গাপুর — “dollar sing”
USD/PLN — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / পোল্যান্ড — “dollar zloty”
USD/THB — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / থাইল্যান্ড — “dollar baht”
এক্সোটিক মেজর বা ক্রসের মতো বেশি ট্রেড হয় না, তাই তাদের spread EUR/USD-র চেয়ে দুই বা তিন গুণ চওড়া। লিকুইডিটি পাতলা বলে তাদের দাম রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক ধাক্কায় অনেক বেশি সংবেদনশীল।
কম লিকুইডিটি মানে চওড়া spread আর রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক খবরে প্রচণ্ড দোলা — নির্বাচনের একটা সারপ্রাইজ বা একটা কেলেঙ্কারি একটা এক্সোটিক পেয়ারকে জোরে নাড়াতে পারে। নতুন হিসেবে এক্সোটিক নিয়ে সাবধান থাকুন।
একটা round-turn হল একটা পুরো ট্রেড — খোলা আর বন্ধ করা। টোল দেন round-turn-এ, আর ঠিক এই কারণেই চওড়া spread-এর এক্সোটিকে খরচ দ্রুত জমে।
পৃথিবীতে প্রায় 180টা কারেন্সি আছে, যাদের নিজস্ব ISO 4217 কোড আছে — অনেক সম্ভাব্য পেয়ার। তবে সবগুলো ট্রেড করা যায় না; ব্রোকাররা সাধারণত মোটামুটি 70টা পর্যন্ত কারেন্সি পেয়ার দেন।
G10 হল পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ট্রেড হওয়া — আর সবচেয়ে লিকুইড — দশটা কারেন্সি। বড় খেলোয়াড়রা রেটে সামান্য প্রভাব ফেলে এগুলো অবাধে কেনাবেচা করেন।
USD (মার্কিন ডলার) · EUR (ইউরো) · GBP (ব্রিটিশ পাউন্ড) · JPY (জাপানি ইয়েন) · AUD (অস্ট্রেলিয়ান ডলার) · NZD (নিউজিল্যান্ড ডলার) · CAD (কানাডিয়ান ডলার) · CHF (সুইস ফ্রাঁ) · NOK (নরওয়েজিয়ান ক্রোন) · SEK (সুইডিশ ক্রোনা)
প্রতিটি ট্রেড একটা পেয়ার — একটা কারেন্সিতে long, অন্যটায় short। মেজরে সবসময় USD থাকে (এমন সাতটা); ক্রস USD ছাড়া দুটো মেজরকে জোড়ে; এক্সোটিক একটা মেজরকে একটা উদীয়মান বাজারের কারেন্সির সঙ্গে জোড়ে। মেজর সবচেয়ে লিকুইড; এক্সোটিকে খরচ সবচেয়ে বেশি আর দোলা সবচেয়ে জোরে।
ডেস্কে দেখা হবে। — AI Mentor
