টাকা। আরও নির্দিষ্টভাবে, কারেন্সি — আর সেই বড় আটটা, যাদের সঙ্গে আপনার প্রথমে দেখা হবে

এটা হাতে ধরা যায় না, জাহাজে পাঠানো যায় না, গুদামে সাজিয়ে রাখা যায় না — তবু এটাই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ট্রেড হওয়া জিনিস।
এটা হাতে ধরা যায় না, জাহাজে পাঠানো যায় না, গুদামে সাজিয়ে রাখা যায় না — তবু এটাই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ট্রেড হওয়া জিনিস। তাহলে Forex-এ আপনি ঠিক কী ট্রেড করছেন? সহজ উত্তর: টাকা। আরও নির্দিষ্টভাবে, কারেন্সি।
এখানে কোনো বস্তুগত জিনিস হাতবদল হয় না, আর সেই কারণেই শুরুতে পুরো ব্যাপারটা পিচ্ছিল মনে হয়। একটা তুলনাই সেটা ঠিক করে দেয়।
একটা কারেন্সি ট্রেড হয় একটা জাতীয় স্কোরবোর্ডের মতো। একটা দেশ যে সংখ্যাই প্রকাশ করুক — বৃদ্ধি, চাকরি, মূল্যবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরের পদক্ষেপ — কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেটা সেই স্কোরবোর্ডে পৌঁছায়, আর দাম হল সেই অর্থনীতি নিয়ে বাজারের ধারণার চলতি যোগফল।

জাপানি ইয়েন কেনা মানে বাজি ধরা যে জাপানের স্কোরবোর্ড, যার বিপরীতে আপনি বিক্রি করেছেন সেটার চেয়ে ভালো দেখাবে। জাপান পরম অর্থে ভালো করছে, তা নয় — বিকল্পের চেয়ে ভালো করছে।
পরে পজিশন বন্ধ করলে দুটো স্কোরবোর্ডের পার্থক্যই আপনার ফল — যে কোনো দিকে।
এক লাইনে পুরো ধারণাটা এই: একটা এক্সচেঞ্জ রেট কখনোই একটা অর্থনীতির রায় নয়। এটা সবসময় দুটোর মধ্যে একটা তুলনা।
ট্রেড করার মতো প্রচুর কারেন্সি থাকলেও, নতুন Forex ট্রেডার হিসেবে আপনি প্রায় নিশ্চিতভাবে শুরু করবেন “মেজর কারেন্সি” দিয়ে।

মেজর কোনো সরকারি উপাধি নয় — এটা শুধু যেখানে ভলিউম যায়। এই আটটার পিছনে সবচেয়ে গভীর বাজার, আর সেই কারণেই এগুলো ট্রেড করতে সবচেয়ে কম খরচ, আর এদের সঙ্গেই আপনার প্রথম দেখা হবে।
সঠিক তালিকা নিয়ে সব ট্রেডার একমত নন। কেউ কেউ শুধু USD, EUR, JPY, GBP আর CHF-কে মেজর ধরেন, আর AUD, NZD ও CAD-কে “কমোডিটি কারেন্সি”-র মধ্যে রাখেন। ব্যাপারটা সহজ রাখতে আমরা আটটাকেই মেজর ধরি।
মেজর — সবচেয়ে বেশি ট্রেড হওয়া আটটা কারেন্সি। ডেস্কে “মেজর ট্রেড করা” মানে কম ট্রেড হওয়া এক্সোটিকের বদলে এই গভীর, লিকুইড নামগুলোতেই থাকা, কারণ এক্সোটিকে দাম লাফায় আর spread চওড়া হয়।
নিচে আটটাই আছে — চিহ্ন, দেশ, কারেন্সির নাম, আর ডেস্কে আপনি আসলে যে ডাকনাম শুনবেন।

একটা কোড বাঁ থেকে ডানে পড়ুন, সেটা নিজেই নিজের মানে বলে দেয়: দুটো অক্ষর জায়গার জন্য, একটা টাকার জন্য। CHF হল Confoederatio Helvetica আর ফ্রাঁ; JPY হল জাপান আর ইয়েন। ভাগটা একবার দেখলে আর কোনো কোড মুখস্থ করতে হবে না।
এগুলোর পিছনের মানক হল ISO 4217, যা 1973 সালে ঠিক হয়েছিল — আর এই কারণেই সাও পাওলোর একটা ট্রেডিং স্ক্রিন আর সিঙ্গাপুরের একটা স্ক্রিন একটা কারেন্সিকে একইভাবে দেখায়।

NZD-র কথা ধরুন: NZ মানে নিউজিল্যান্ড, আর D মানে ডলার। ধরনটা একবার ধরতে পারলে প্রতিটি কোড নিজেই নিজেকে পড়িয়ে দেয়।
এই তালিকার দুই প্রান্তের মধ্যে বারো শতাব্দীর ব্যবধান। ব্রিটিশ পাউন্ড 8ম শতাব্দী থেকে টাকা; Zimbabwe Gold (ZiG) টাকা হয়েছে 5 এপ্রিল 2024 থেকে।
একটা ট্রেডিং ডেস্কে ঢুকলে কেউ “United States dollar” বলেন না। তাঁরা বলেন buck। পাউন্ড হল cable, সুইস ফ্রাঁ swissy, কানাডিয়ান ডলার loonie, অস্ট্রেলিয়ান aussie, আর নিউজিল্যান্ডেরটা kiwi।
Cable — GBP/USD-র এই ডাকনাম 1860-এর দশকের, যখন পাউন্ড-ডলারের কোট আটলান্টিক পেরোনো টেলিগ্রাফ *কেবল* দিয়ে পাঠানো হত। ট্রেডাররা আজও এই পেয়ারকে “cable” বলেন।
ডলারের রাস্তার নাম অন্য যে কোনো কারেন্সির চেয়ে বেশি — greenbacks, bucks, আর dead presidents তার কয়েকটা — কিন্তু ডেস্কে আপনি শুনবেন “buck”।
পেরুর ট্রেডাররা মার্কিন ডলারকে বলেন Coco — Jorge-র সংক্ষেপ, যা স্প্যানিশে George, কারণ এক ডলারের নোটে জর্জ ওয়াশিংটনের মুখ।

আপনি জিনিস নয়, কারেন্সি ট্রেড করেন — একটা কেনা মানে সেই দেশের অর্থনীতির একটা শেয়ার কেনার মতো। আটটা মেজর দিয়ে শুরু করুন: USD, EUR, JPY, GBP, CHF, CAD, AUD, NZD। প্রত্যেকটা তিন অক্ষরের একটা ISO কোড — দুটো দেশের জন্য, একটা কারেন্সির জন্য — আর প্রত্যেকটার একটা ডেস্কের ডাকনাম আছে।
ডেস্কে দেখা হবে। — AI Mentor
